Home / BCS Tips / আমি যেভাবে ভাইভার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম

আমি যেভাবে ভাইভার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম

আহসানুর হক সৈকত তালুকদার : ৩৭ তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হলেন, আপনাদের অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। জানি, এই দিনটার জন্য অনেক পরিশ্রম, অনেক উৎকন্ঠা সহ্য করতে হয়েছে আপনাদের। তাই কয়েকটা দিন আনন্দ করুন। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনি তখনই চরম পুলক অনুভব করতে পারবেন, যখন দেখবেন চুড়ান্ত ফলাফলে আপনার রেজিঃ নম্বর আছে। এজন্য আপনাকে আরও একটা ধাপ পার হতে হবে। আর সেটা হলো ভাইভা।

Loading...

 

ভাইভা নিয়ে টেনশন করা, আর নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা একই কথা। কারণ লিখিত পরীক্ষার জন্য মনকে সান্ত্বনা দেওয়ার মত অন্তত একটা সিলেবাস আছে, ভাইভার তাও নেই। বোর্ড কোথা থেকে কি প্রশ্ন করবে আমরা কেউ জানিনা। কাউকে দেখে বোর্ডের জাতীয় সংগীত শুনতে ইচ্ছা করে, আবার কাউকে দেখে আইএস সম্পর্কে জানতে ইচ্ছে করে। তবে এটা জানার পরেও আমরা কেউই না পড়ে ভাইভা বোর্ডে যাই না, যাব না। তাই যে বিষয়গুলো না দেখে গেলে নিজের ভিতর আত্নবিশ্বাস পাওয়া যায় না, সে বিষয়গুলো তুলে ধরছি…

 

এক) নিজের বিভাগ ও জেলা নিয়ে বিস্তারিত পড়েছিলাম। সংশ্লিষ্ট জেলার ওয়েবসাইট থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তি, খারাপ ব্যক্তি, দর্শনীয় স্থান, মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি নিয়ে পড়বেন।

দুই) অনার্স ও মাস্টার্স যে বিষয়ে সম্পন্ন করেছি, সে বিষয়ের মৌলিক জিনিসগুলো ভালো করে ঝালাই করে নিয়েছিলাম। বোর্ডে এটা নিয়ে দুই চারটা প্রশ্নের সম্মুখীন হতেও পারেন। আর নিজের পঠিত বিষয় নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারা কোন গর্বের বিষয় না।

তিন) যে ভার্সিটিতে পড়েছি, যে ডিপার্টমেন্টে পড়েছি সেসব সম্পর্কে জেনেছিলাম। কারণ ভাইভা বোর্ডে অনেক স্যারই থাকেন যাদের বন্ধু বা পরিচিত কেউ আপনার ডিপার্টমেন্টে বা ভার্সিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। সুতরাং সেসব নিয়েও জিজ্ঞাসা করতে পারে।

 

চার) প্রথম ও দ্বিতীয় পছন্দ নিয়ে পড়েছিলাম। ৩৬ তম বিসিএসে আমার প্রথম পছন্দ ছিল পুলিশ। পুলিশ নিয়ে অনেক প্রশ্ন করেছিল (ভাইভা অভিজ্ঞতা নিয়ে পরে লিখব)। তাই প্রথম ও দ্বিতীয় পছন্দ নিয়ে পড়ালেখা করবেন। পছন্দের সাথে আপনার অনার্সের পঠিত বিষয়ের সম্পর্ক কি সেটাও জেনে রাখবেন। যাদের প্রথম পছন্দ বিসিএস (প্রশাসন) তাঁরা অ্যাসুরেন্স বিসিএস ভাইভা গাইড (প্রশাসন) কিনতে পারেন। যাদের বিসিএস (পুলিশ) তাঁরা অ্যাসুরেন্স বিসিএস ভাইভা গাইড (পুলিশ) বা ড. জামিলস ভাইভা গাইড (পুলিশ) কিনতে পারেন।

 

পাঁচ) প্রথমেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ঝালিয়ে নিয়েছিলাম। ক্যাডারই চয়েস যাই দিয়ে থাকেন না কেন এটা আপনাকে পড়তে হবেই। শুধু ভাইভার জন্যই না, এই বইটা পড়তে আমার কেন জানি ভালোই লাগে। আরিফ খান লিখিত সহজ ভাষার সংবিধান বইটি আমার খুব ভালো লাগে।

ছয়) ভাইভাতে দেশ-বিদেশের মৌলিক কিছু জ্ঞান ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। এজন্য প্রিলির জন্য কেনা সাধারণ জ্ঞানের বই ও দৈনিক পত্রিকার পাতায় চোখ রেখেছিলাম। পত্রিকা পড়ে প্রয়োজনীয় তথ্য একটা খাতায় টুকে রাখুন। ভাইভার আগে একনজরে দেখে যেতে পারবেন।

সাত) পিএসসিতে এক ভাইভায় বোর্ড আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, বঙ্গবন্ধুর আত্নজীবনী বইটা পড়েছেন? যেহেতু গাইড থেকে আমি বইটার অনেক কিছুই জেনেছি, তাই বইটা না পড়া সত্ত্বেও সাহস করে বলেছিলাম, জ্বি স্যার পড়েছি। অতঃপর বোর্ড একটা লাইন বলে বললেন, বলেন তো এইটা কে কাকে কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে বলেছিল? আমি উত্তর দিতে না পারায়, উনারা বলেছিলেন, আপনি আসলে বইটা পড়েননি। এরকম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে যাতে না পড়তে হয়, তাই বইটা পড়বেন।

 

আট) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভালো করে পড়েছিলাম। শুধু ভাইভার জন্য না, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষের এই ইতিহাস জানা উচিত। এজন্য অ্যাসুরেন্স বিসিএস ভাইভা গাইড (মুক্তিযুদ্ধ) বা ড. জামিলস ভাইভা গাইড (মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা) বইটা দেখতে পারেন।

নয়) ভাইভা বাংলা ও ইংরেজী উভয় মাধ্যমেই হতে পারে। তাই উভয় মাধ্যমেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। আমি ইংরেজীতে এমনিতেই দুর্বল ছিলাম, তাঁর উপর স্পোকেন বলতে গেলে পারিই না। তাই Express yourself, Why BCS, Why Police, Journey to PSC, Activities from last night to viva board, Economy of Bangladesh, Liberation war, Home district ইত্যাদি কমন কিছু প্রশ্ন ইংরেজীতে শিখে গিয়েছিলাম। কপাল খারাপ হলে যা হয়, আমারও তাই হয়েছে। ইংরেজীতে আইএস সংকট নিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিল। আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়েছিলাম। আপনাকে যেন আত্নসমর্পন করতে না হয়, সে চেষ্টায় থাকুন।

সবকিছুর শেষ কথা হলো, ভাইভার কোন ধরাবাঁধা নিয়ম নাই। কাউকে সহজ সহজ প্রশ্ন করে ছেড়ে দেয়, আবার কারো ভাগ্যে পড়ে বিদঘুটে সব প্রশ্ন। তবে হতাশ হওয়ার কিছু নাই। ভাইভায় ব্যাপক খারাপ কিছু না হলে সাধারণত ফেল করায় না।

সুতরাং আনন্দ উপভোগ করুন, ভালো থাকুন। লেখাপড়া চালিয়ে যান। শেষ হাসি আপনি হাসবেনই।

 

লেখক

আহসানুর হক সৈকত তালুকদার 
৩৬ তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা)

সিনিয়র অফিসার, বিকেবি

বিসিএসের টিপস সবার আগে পেতে আমাদের পেইজে লাইক দিয়ে একটিভ থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *