Home / BCS Tips / বিসিএস ভাইভা : কয়েকটি বাস্তব অভিজ্ঞতা জেনে নিন

বিসিএস ভাইভা : কয়েকটি বাস্তব অভিজ্ঞতা জেনে নিন

আহসানুর হক সৈকত তালুকদার:  বিসিএস ভাইভা, পিএসসির নন-ক্যাডার ভাইভা, সরকারী ব্যাংক ভাইভা ও অন্যান্য সরকারী প্রথম শ্রেণীর ভাইভা বোর্ড কেমন হয়, কী ধরণের প্রশ্ন করে এসব নিয়ে আমাদের কৌতূহলের শেষ নেই। আমার ৩৪ টি বাস্তব ভাইভা অভিজ্ঞতা থেকে আপনাদের জন্য তিনটি বিসিএস, তিনটি নন-ক্যাডার, তিনটি সরকারী ব্যাংক ও তিনটি

Loading...

অন্যান্য সরকারী চাকরীর ভাইভা তুলে ধরে সেই কৌতূহল কিছুটা মেটানোর চেষ্টা করলাম। প্রথমেই বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা দিয়ে শুরু করছি।

প্রশ্ন গুলো PDF ডাউনলোড করতে নিচে ক্লিক করুন

PDF File Download  link

 

৩৩ তম বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা
তারিখঃ ১১ জুলাই, ২০১৩
বোর্ডঃ এমরান কবির চৌধুরী
চয়েসঃ এডমিন> অডিট > ট্যাক্স
সময়ঃ ১১:৩০ মিনিট
বোর্ডে অবস্থানকালঃ ০৫ মিনিট (কাউকেই ৫ মিনিটের বেশি রাখেনি)

 

 

বোর্ড প্রধানঃ নাম, পিতার নাম, পেশা, রেজিঃ নম্বর, ক্যাডার চয়েস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল ।
প্রার্থীঃ সব ঠিকঠাক উত্তর দিলাম ।
বোর্ড প্রধানঃ আজ সকাল থেকে এখন পর্যন্ত যা যা করেছো সব ইংরেজীতে বল ।
প্রার্থীঃ বললাম…
১নং সদস্যঃ রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি অরগান এর নাম কি ?
প্রার্থীঃ শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ ।
১নং সদস্যঃ তিনটি বিভাগের কাজ বল ?
প্রার্থীঃ বললাম…
১নং সদস্যঃ জাতীয় সংসদের প্রধান কে ?
প্রার্থীঃ মাননীয় স্পিকার ।
১নং সদস্যঃ অ্যাডমিন ক্যাডারের মাঠ পর্যায়ের এবং সচিবালয় এর পদসোপান বলেন ?
প্রার্থীঃ বললাম…
১নং সদস্যঃ সহকারী কমিশনার এর কাজ কি ?
প্রার্থীঃ বললাম…
১নং সদস্যঃ সহকারী সচিব এর কাজ কি ?
প্রার্থীঃ বললাম…
২ নং সদস্যঃ তোমার টাই টা তো খুব সুন্দর, আচ্ছা টাই এর এই বাঁধা অংশটাকে কি বলে ?
প্রার্থীঃ নট বলে ।
২ নং সদস্যঃ নট বানান কর ?
প্রার্থীঃ বলতে পারি নি (কোন ভাবেই মনে আসছিল না, সঠিক বানান KNOT)
২ নং সদস্যঃ রাষ্ট্রের যে এই তিনটি বিভাগের কথা বললে এদের প্রধান কে ?
প্রার্থীঃ শাসন বিভাগের প্রধান – প্রধানমন্ত্রী, আইন বিভাগের প্রধান – স্পিকার, বিচার বিভাগের প্রধান – প্রধান বিছারপতি ।
২ নং সদস্যঃ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম কি ?
প্রার্থীঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।
২ নং সদস্যঃ হয় নি । তুমি প্রধানমন্ত্রীর নাম জানো না !!! তুমি এখন আসতে পার।
প্রার্থীঃ ধন্যবাদ স্যার, আসসালামু আলাইকুম ।

 

 

৩৪তম বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা 
বোর্ডঃ তোফাজ্জল হোসেন তরফদার
পছন্দক্রমঃ এডমিন> ট্যাক্স> অডিট
সময়ঃ ১০:৫০ মিনিট, অবস্থানকালঃ ১০ মিনিট
ভাষাঃ বাংলা+ইংরেজী

প্রার্থীঃ (বেল বাজার সাথেই দরজা খুলে বললাম) আসতে পারি, স্যার?
বোর্ডঃ আসুন
প্রার্থীঃ আসসালামু আলাইকুম, স্যার।
বোর্ডঃ উত্তর দিয়ে বলল, বসুন।
প্রার্থীঃ ধন্যবাদ, স্যার।
বোর্ডঃ জোরে জোরে আমার রেজাল্ট, সাবজেক্ট, বাড়ি, চয়েজ সম্পর্কে পড়ে অন্য সদস্যদের জানালো। (আমি মনে মনে কইতেছি এগুলা তো আমি “Express yourself” এর মধ্যে বলমু, উনি বলতাছে ক্যা??) আমার প্রথম পছন্দ এডমিন হওয়ায় বললেন এডমিন কেন প্রথমে দিয়েছেন ইংরেজীতে বলেন।
প্রার্থীঃ Actually my parents and neighbours encourage me to give BCS (Administration) as first choice. (একটু আবেগ দিয়ে কইছিলাম)
বোর্ডঃ আপনার বাবা মায়ের ইচ্ছা! আপনার ইচ্ছা নাই?
প্রার্থীঃ I had a dream also.
বোর্ডঃ কেন ? আপনার স্বপ্ন কেন?
প্রার্থীঃ Because this cadre has high social status, more opportunity to serve the nation and its people and to get Scholarship.
বোর্ডঃ ইরাক-সিরিয়া সংকট সম্পর্কে বলেন।
প্রার্থীঃ A group named Islamic State (IS) occupied a piece of land between Iraq and Syria. Thats the crisis.
বোর্ডঃ আরো বিস্তারিত বলেন?
প্রার্থীঃ স্যার, বাংলায় বিস্তারিত বলতে পারবো।
বোর্ডঃ সেই ঝারি দিলেন। (মনে হলো বিসিএস আর জীবনে দেবো না) আপনি এডমিন ক্যাডার প্রথম চয়েজ দিয়েছেন। বিদেশ যাবেন, বিভিন্ন দেশের সাথে চুক্তি করবেন সেসব তো ইংরেজীতে করতে হবে। কিভাবে করবেন?
প্রার্থীঃ কাচু মাচু হয়ে বললাম, নিয়োগ পেলে পর্যাপ্ত ট্রেনিং ও অধ্যায়ণের মাধ্যমে নিজেকে ডেভেলপ করবো ।
বোর্ডঃ পরে আর খুব বেশি ডেভেলপ করা যায় না। সেইরকম ফোর্স নিয়ে বললেন, আচ্ছা, অমর্ত্য সেন সম্প্রতি একটা পুরস্কার পেয়েছেন, তার নাম কি?
প্রার্থীঃ জানি না, স্যার। (এরপর যে কি ধরে, মাথা নষ্ট)
বোর্ডঃ ইবোলা কি?
প্রার্থীঃ (যাক, কমন পড়ছে) একটি ভাইরাসের নাম।
বোর্ডঃ এটি কবে কোথায় প্রথম পাওয়া যায়?
প্রার্থীঃ এটি ১৯৭৬ সালে কংগোতে প্রথম পাওয়া যায়।
বোর্ডঃ এর কোন প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়েছে কি?
প্রার্থীঃ জি, হয়েছে।
বোর্ডঃ কি নাম? কে আবিষ্কার করেছে?
প্রার্থীঃ নামটা পারতাম কিন্তু ভুলে গেছি। কে আবিষ্কার করেছে জানি না। (তবে আমি করি নাই নিশ্চিত)
বোর্ডঃ আচ্ছা, তুমি তো দর্শন পড়েছো, বলো দর্শন কি নিয়ে আলোচনা করে?
প্রার্থীঃ জগত ও জীবন নিয়ে যেসব মৌলিক প্রশ্ন রয়েছে তার যৌক্তিক উত্তর অনুসন্ধানই দর্শন। তন্মধ্যে ঈশ্বর, আত্মা, মন, নৈতিকতা, যুদ্ধ ইত্যাদিই মুল বিষয়।বোর্ডঃ আত্মা অবিনশ্বর এর ইংরেজী কি?

 

প্রার্থীঃ প্রথমে Soul is mortal বলছি। পরে বলতেছেন আবার বলো তখন বললাম Soul is immortal.
বোর্ডঃ আরোহ ও অবরোহ কি?
প্রার্থীঃ (অনার্স লাইফে এ বিষয়ে ইমপ্রুভ দিছি, বুঝেন অবস্থাটা) বিশেষ বিশেষ বাক্য থেকে সার্বিক বাক্যে উপনীত হওয়ার পদ্ধতি হলো আরোহ আর একটি সার্বিক বাক্য থেকে বিশেষ বাক্য আসার নাম অবরোহ।
বোর্ডঃ অনুপপত্তি কি?
প্রার্থীঃ ভুল বা ত্রুটি।

প্রশ্ন গুলো PDF ডাউনলোড করতে নিচে ক্লিক করুন

PDF File Download  link

 

বোর্ডঃ “——-” একটা বাক্য বলে বলেছেন, এটা কোন ধরনের অনুপপত্তি?
প্রার্থীঃ জানি না, স্যার। (একটা সহজ বাক্য ধরলেই পারতাম না, আর আপনি ধরছেন কঠিন)
বোর্ডঃ দেশের দুজন দার্শনিক এর নাম বলো।
প্রার্থীঃ (কমন পড়ছে) ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব এবং আরজ আলী মাতব্বর।
বোর্ডঃ গোবিন্দ চন্দ্র দেব কি বেচে আছেন?
প্রার্থীঃ না। উনি ২৫ মার্চ, ১৯৭১ সালে হত্যা করা হয়। (ইচ্ছা ছিল মুক্তিযুদ্ধে ঢুকানো কিন্তু বোর্ড সেদিকে যায় নি)
বোর্ডঃ হাইতি কোথায়?
প্রার্থীঃ পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের একটা স্বাধীন দেশ।
বোর্ডঃ ঠিক আছে, আপনি আসেন।
প্রার্থীঃ ধন্যবাদ, স্যার। দাঁড়িয়ে সালাম দিয়ে প্রস্থান করলাম।

৩৬ তম বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা
বোর্ডঃ শাহ আব্দুল লতিফ
পছন্দক্রমঃ পুলিশ> এডমিন> অডিট
অবস্থানকালঃ ৭-৮ মিনিট
ভাষাঃ বাংলা

Q: বাড়ি অমুক জেলায় কিন্তু সেন্টার খুলনা, কেন?
A: স্যার, এক বন্ধুকে এপ্লাই করতে বলেছিলাম, ওর বাড়ি খুলনা, সে নিজেরটা ও আমারটা দুটোরই সেন্টার খুলনা দিয়েছে।
Q: আপনার বয়স তো দেখছি শেষের পথে। তা কোন চাকরি করেন?
A: জ্বি, স্যার।
Q: কিসে জব করেন?
A: একটা প্রাইভেট জুট মিলে (আসলে সরকারী ব্যাংকে)।
Q: জব উল্লেখ করেন নাই কেন?
A: প্রাইভেট তাই উল্লেখ করিনি। তাছাড়া ছাড়পত্র চাইলে তো চাকরি থেকেই ছাটাই করে দেবে।
Q: Online ও Offline কি?
A: বললাম। কিন্তু তাদের মনে ধরেনি।
Q: কম্পিউটার ভাইরাস কি?
A: এক ধরণের ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম।
Q: অপরাধ কি?
A: আইন, বিধি বহির্ভূত যেকোন কাজই অপরাধ।
Q: SPBn কি?
A: Special Security and Protection Battalion.
Q: এদের কাজ কি?
A: প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা দেয়া।
Q: এদের সাধারনত কই দেখা যায়?
A: ভেবে চিন্তে কিছু খুঁজে পাই না। সরি বললাম।
Q: প্রধানমন্ত্রী সান্ধ্যকালীন কার্যালয়ের নাম কি?
A: গণভবন। (এখন মনে হলো এদের তো গণভবনের সামনেই দেখা যায়।)
Q: পুলিশ কোন আইন দ্বারা পরিচালিত?
A: PRB
Q: কত সালে PRB প্রণীত হয়?
A: ১৯২৭
Q: পুলিশের সর্বনিম্ন স্তরের নাম কি?
A: থানা।
Q: AK 47 কি?
A: পিস্তল।
Q: AK এর পূর্ণরূপ কি?
A: জানিনা, স্যার।
Q: LMG এর পূর্ণরূপ কি?
A: Light Machine Gun.
Q: কয়েকটি পিস্তলের ব্রান্ডের নাম বলেন।
A: জানিনা, স্যার।
Q: OPEC কি?
A: Organization of the Petroleum Exporting Countries.
Q: কাজ কি?
A: বললাম।
Q: এইটা কোন কাজ হলো। মূল কাজটা বলেন।
A: মনে করতে পারছি না।
Q: পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা নাম কি কি?
A: DB, SB, CID.
Q: SB এর কাজ কি?
A: বললাম। বলার সাথে সাথেই সার্টিফিকেটগুলো হাতে ধরিয়ে দিল। বুঝলাম, উনারা আমার উপর বিরক্ত।

 

এবার দেখা যাক, পিএসসিতে নন-ক্যাডার পদের ভাইভা অভিজ্ঞতা।
পদের নামঃ সহকারী পরিচালক, পিএসসি
বোর্ডঃ জহুরুল আলম
সময়ঃ ১১:০০ টায়
ভাষাঃ বাংলা, অবস্থানকালঃ ২০ মিনিট

প্রার্থীঃ (বেল বাজার সাথেই দরজা খুলে বললাম) আসতে পারি, স্যার?
বোর্ডঃ আসুন
প্রার্থীঃ আসসালামু আলাইকুম, স্যার।
বোর্ডঃ উত্তর দিয়ে বসতে বললেন।
প্রার্থীঃ ধন্যবাদ, স্যার।
বোর্ডঃ বোর্ডপ্রধান তিন মিনিট শুধু আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। কোন কথা নাই, শুনশান নীরবতা। অত:পর বললেন, তোমার নাম কি?
প্রার্থীঃবললাম…
বোর্ডঃ সৈকত এর ইংরেজী কি?
প্রার্থীঃ বীচ
বোর্ডঃ বানান করো?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ তোমার রেজি: নম্বর বলো?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ তোমার বাড়ি কোন জেলায়?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ তোমাদের জেলা কি এখনও আগের মত অনুন্নতই আছে?
প্রার্থীঃ জ্বি, স্যার। (উনার কার নাকি বিয়ে হইছে আমাদের জেলায় সেগুলো নিয়ে কিছুক্ষন গল্প করলো)
বোর্ডঃ বড়পুকুরিয়া কোথায়?
প্রার্থীঃ দিনাজপুর।
বোর্ডঃ বাংলাদেশে কঠিন শিলা কোথায় পাওয়া যায়?
প্রার্থীঃ দিনাজপুরের মধ্যপাডায়।
বোর্ডঃ ” —–” – এটা কার উক্তি?
প্রার্থীঃ জানি না, স্যার।
বোর্ডঃ জীবন দর্শন কি?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ অস্তিত্ববাদ কি?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ এর জনক কে?
প্রার্থীঃ বললাম… (আমি সঠিকই বলছি, উনি বলতেছেন ভুল বলছি। আমি কিছু বই এর রেফারেন্স দিলাম)
বোর্ডঃ রবীন্দ্রনাথ কি দার্শনিক?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ ৩৩ তম বিসিএস রিটেন দিয়েছো?
প্রার্থীঃ জ্বি, স্যার।
বোর্ডঃ কেমন হয়েছে? ইংরেজী কেমন হয়েছে? (ড্রয়ার থেকে প্রশ্ন বের করে ইংরেজী প্রশ্ন টেবিলের উপরে রেখে বাকিগুলো আবার রেখে দিল)
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ আমি বাংলা পড়বো তুমি তার ইংরেজী বলবে। এই বলে প্রশ্ন থেকে অনুবাদ পড়া শুরু করে দিল।
প্রার্থীঃ সাথে সাথে বলতে লাগলাম। কিন্তু তাল মিলাতে পারছি না। বললাম স্যার প্রশ্নটা আমার সামনে দিলে অনুবাদ ভালো করতে পারতাম।
বোর্ডঃ এবার প্রশ্ন থেকে ইডিয়ম-ফ্রেজ ধরা শুরু করলো
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ প্রশ্ন থেকে কারেকশন ধরা শুরু করলো।
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ আবার একমিনিট নীরবতা পালন করলো। তারপর বলল, আপনার বয়স জানি কত?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ ঠিক আছে এবার আসো।
প্রার্থীঃ ধন্যবাদ ও সালাম দিয়ে বের হলাম।

পদের নামঃ প্রভাষক, শ্রম পরিদপ্তর 
বোর্ডঃ আবুল কাশেম মজুমদার
সময়ঃ ১০:৩০ মিনিট
ভাষাঃ বাংলা, অবস্থানকালঃ ১২ মিনিট

প্রার্থীঃ (বেল বাজার সাথেই দরজা খুলে বললাম) আসতে পারি, স্যার?
বোর্ডঃ আসুনপ্রার্থীঃ আসসালামু আলাইকুম, স্যার।
বোর্ডঃ উত্তর দেন নাই (মনে মনে দিছেন কি না আমি ক্যাম্নে কমু)। কেমন আছেন?
প্রার্থীঃ ভালো, তবে একটু নার্ভাস, স্যার।
বোর্ডঃ ও বসুন। নার্ভাস ফিল করার তো কিছু নাই। আমরা তো আপনাদের সহযোগিতা করি (আপনারা সহযোগিতা করেন, সেরা জোকস!!!) এখানে আসতে কি কোন সমস্যা হয়েছে?
প্রার্থীঃ না, স্যার।
বোর্ডঃ বিপিএসসি ফরম দেখে জোরে জোরে আমার সব তথ্য পড়ে শোনালেন অন্যান্য মেম্বারদের। বলেন তো আপনি কোন পদের ভাইভা দিতে এসেছেন? এ পদের কাজ কি হতে পারে? (কমন পড়ছে)
প্রার্থীঃ আমি “প্রভাষক, শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন” পদের ভাইভা দিতে এসেছি। শ্রমিক-মালিক এবং শ্রম প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শ্রম আইন, প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষাদান করা এ পদের কাজ।
বোর্ডঃ শ্রম আইন কত সালে প্রণীত হয়?
প্রার্থীঃ ২০০৬ সালে।
বোর্ডঃ জব হলে এই বই পুরাটা জানতে হবে! (আগে হোক স্যার, তারপর দেখবানে) বলো, মজুরী কি?
প্রার্থীঃ শ্রমিক কাজ করার বিনিময়ে যে পারিশ্রমিক পায় তাই মজুরী।
বোর্ডঃ ভ্রমণ ভাতা কি মজুরীর অন্তর্ভুক্ত?
প্রার্থীঃ না, স্যার। (আমি জানি না, এমনি বলছি)
বোর্ডঃ তাইলে এটা কি?
প্রার্থীঃ এটা… (অনেক চিন্তা করেও মাথায় কিছু আনতে পারি নাই)
বোর্ডঃ কত বছরের নিচে শিশু হিসেবে ধরা হয়?
প্রার্থীঃ ১৮ বছর, স্যার। (সবার জন্য না!!!)
বোর্ডঃ শিশু কিশোর কত থেকে কত বছর?
প্রার্থীঃ ৭-১৬ বছর।
বোর্ডঃ তাহলে কিশোর?
প্রার্থীঃ ১৬-১৮ বছর, স্যার।
বোর্ডঃ সংশোধনী কেন্দ্র কি?
প্রার্থীঃ বিচারে দোষী বিবেচিত হলে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংশোধনের প্রয়োজন হলে কিশোরদের সংশোধনের জন্য যে কেন্দ্রে রাখা হয় তাই সংশোধনী কেন্দ্র।
বোর্ডঃ দেশে সংশোধনী কেন্দ্র কয়টি?
প্রার্থীঃ তিনটি। গাজীপুরে দুইটি এবং যশোরে একটি। (প্রথমে যশোর না বলে দিনাজপুর বলছিলাম)
বোর্ডঃ বাংলাদেশে সর্বনিম্ন মজুরী কত?
প্রার্থীঃ ৫৩০০ টাকা।
বোর্ডঃ সামনে রাখা কাগজ কলম দেখিয়ে বললেন, He said, “I went to school” এর Narration করেন। (স্যার, ভাইভা মানে মৌখিক)
প্রার্থীঃ He said that he had gone to school.
বোর্ডঃ আচছা, আমরা কি কি ধরনের লোক পাঠাই?
প্রার্থীঃ নির্মান শ্রমিক, ড্রাইভার ইত্যাদি!
বোর্ডঃ ঢাকায় থাকেন যেহেতু অসমাপ্ত আত্নজীবনী তো পড়েছেন?
প্রার্থীঃ জ্বি, স্যার। (মিথ্যা বলার খেসারত দেয়া শুরু)
বোর্ডঃ নুরুল আমীনের স্ত্রী কেন বংগবন্ধুর কাছে গিয়েছিল?
প্রার্থীঃ মনে নেই, স্যার (আসলে পারি না)
বোর্ডঃ বইটাতে বেবী মওদুদ এর অবদান কি?
প্রার্থীঃ (আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে করার চেষ্টা করলাম, পারলাম না)
বোর্ডঃ আমরা তো এখানে এমনি এমনি বসি নাই! আপনি মিথ্যা বলছেন এটা আমরা বুঝি!
প্রার্থীঃ কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। (আমি কি জানি এগুলো ধরবেন, গাইডে তো এগুলো নাই)
বোর্ডঃ আইএস কি? এরা কোথায়, কি করেছে?
প্রার্থীঃ আইএস এর পূর্ণরুপ হলো ইসলামিক স্টেট। এরা ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যে একখন্ড ভুমি দখল করেছে।
বোর্ডঃ তিনজন বিখ্যাত দার্শনিকের নাম বলেন?
প্রার্থীঃ সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল।
বোর্ডঃ এদের সম্পর্ক কি?
প্রার্থীঃ সক্রেটিসের ছাত্র প্লেটো, প্লেটোর ছাত্র এরিস্টটল।
বোর্ডঃ প্লেটোর শিক্ষা ব্যবস্থা কি রকম?
প্রার্থীঃ ভুলে গেছি, স্যার।
বোর্ডঃ আদর্শ রাষ্টের প্রধান কে হবেন?
প্রার্থীঃ দার্শনিক রাজা।
বোর্ডঃ তার বৈশিষ্ট্য কি হবে?
প্রার্থীঃ তিনি অনেক জ্ঞানী, সিংহের মত শক্তিমান, এবং শিয়ালের মত ধুর্ত হবেন। (এগুলো নিয়ে আরো প্যাচাইছে)
বোর্ডঃ বোর্ডপ্রধান বললেন, তুমি এবার আসো!
প্রার্থীঃ ধন্যবাদ ও সালাম দিয়ে বের হয়ে আসলাম।

পদের নাম: সহকারী পরিচালক, বিপিএসসি
বোর্ড: কামরুন্নেছা খানম
সময়: সকাল ১০:৩০ মিনিট। বোর্ডের ফার্স্ট ম্যান ছিলাম।
অবস্থানকাল: আনুমানিক ১০ মিনিট।
ভাষা: বাংলা + ইংরেজী

দরজা খুলেই বললাম, আসতে পারি, স্যার?
স্যার: আসুন।
আমি: টেবিলের কাছাকাছি গিয়ে সালাম দিলাম।
স্যার: উত্তর দিয়ে বসতে বললেন।
আমি: ধন্যবাদ দিলাম।
স্যার: নাম কি?
আমি: মোঃ আহসানুর হক সৈকত তালুকদার।
স্যার: বাড়ি কোন জেলায়?
আমি: বললাম (জানতাম জেলার নাম বলার সাথে সাথে নানারকম প্রশ্ন দিয়ে প্যাচানো হবে। জানাটা ঠিক ছিল)।
স্যার: আপনি তো বিখ্যাত জেলার লোক। আপনারা চাঁদে মানুষ দেখেন, গুলি করে মানুষ মারেন ইত্যাদি। আচ্ছা, আপনি চাঁদে মানুষ দেখেননি?
আমি: না, স্যার। এটা দেখা সম্ভব না।
স্যার: অনেকে তো দেখেছে।
আমি: তারা অশিক্ষিত, মূর্খ। তাদের ভুল বুঝানো হয়েছে।
স্যার: না না, অনেক শিক্ষিত লোকও দেখেছে।
আমি: তারা একাডেমিক্যালি শিক্ষিত হলেও রাজনৈতিকভাবে অন্ধ।
স্যার: Tell about your academic background (ভাবছিলাম যখন Express Yourself বলতে বলবে তখন এটা যে আমার ৩৪তম ভাইভা সেকথাটা বলব। কিন্তু আশায় গুড়ে বালি)।
আমি: Answered.
স্যার: বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতির নাম কি?
আমি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
স্যার: সংবিধান অনুযায়ী বলতে হবেনা?
আমি: জ্বি, স্যার। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
স্যার: বর্তমান রাষ্ট্রপতির নাম?
আমি: এডভোকেট মোঃ আব্দুল হামিদ।
এক্স-১: পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপের নাম কি?
আমি: বাংলাদেশ।
এক্স-১: বাংলাদেশ কি পুরাটাই ব-দ্বীপ?
আমি: জ্বি, স্যার (ভ্রু দেখে মনে হলো ভুল উত্তর দিয়েছি)।
এক্স-১: বাংলাদেশের আয়তন কত?
আমি: ১৪৭৫৭০ বর্গ কি.মি।
এক্স-১: এর মধ্যে পাহাড়ি অঞ্চলের আয়তন কত?
আমি: জানিনা, স্যার।
এক্স-১: পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কোথায় অবস্থিত?
আমি: কক্সবাজার, বাংলাদেশ।
এক্স-১: এর দৈর্ঘ্য কত?
আমি: ১২০ কি.মি।
এবার বোর্ড প্রধান এক্সটারনাল-২ কে প্রশ্ন করতে বললেন।
এক্স-২: আপনার সাবজেক্টে কি ডেভেলপমেন্ট স্ট্যাডিস পড়ানো হয়েছে?
আমি: না, স্যার।
এক্স-২: BIMSTEC কোন অঞ্চলের সংগঠন?
আমি: বঙ্গোপসাগর উপকূলের দেশসমূহ নিয়ে।
এক্স-২: কোন কোন দেশ এর সদস্য?
আমিঃ বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, ভুটান ও নেপাল।
এবার বোর্ড প্রধান এক্স-২ কে থামিয়ে দিয়ে বললেন, BIMSTEC এর EC তে কি বুঝায়?
আমিঃ Economic Cooperation.
স্যারঃ আপনি কিসের ভাইভা দিতে এসেছেন?
আমি: সহকারী পরিচালক, বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন সচিবালয়।
স্যার: ইংরেজীতে বলেন।
আমি: Assistant Director, Bangladesh Public Service Commission Secretariat.
স্যার: ঠিক আছে। এবার আসুন।
আমি: ধন্যবাদ ও সালাম দিয়ে বের হয়ে আসলাম।

এবার সরকারী ব্যাংক ভাইভার প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা নেয়া যাক।

পদের নামঃ সহকারী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক 
বোর্ডঃ আবুল কাশেম, ডিজি
সময়ঃ ০২:৩০ মিনিট
ভাষাঃ বাংলা, অবস্থানকালঃ ৮ মিনিট

প্রার্থীঃ (বেল বাজার সাথেই দরজা খুলে বললাম) আসতে পারি, স্যার?
বোর্ডঃ আসুন
প্রার্থীঃ আসসালামু আলাইকুম, স্যার।
বোর্ডঃ উত্তর দিয়ে বসতে বললেন।
প্রার্থীঃ ধন্যবাদ, স্যার।
বোর্ডঃ আপনি দর্শনে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে কেন জব করতে চান?
প্রার্থীঃ বললাম (কিন্তু বোর্ডের মনে ধরলো না)
বোর্ডঃ বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে দুই মিনিট ইংরেজীতে বলুন।
প্রার্থীঃ সেবা, কৃষি এবং শিল্প খাত এর অবদান, রেমিট্যান্স, রিজার্ভ ইত্যাদি নিয়ে বললাম…
বোর্ডঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান দুইটা কাজ বলেন
প্রার্থীঃ মনিটারী পলিসি প্রণয়ন এবং নোট প্রচলন করা।
বোর্ডঃ মনিটারী পলিসি কি?
প্রার্থীঃ যে পলিসির মাধ্যমে দেশের অর্থের প্রকৃতি এবং অর্থব্যবস্থা পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রন করা হয় তাই মনিটারী পলিসি।
বোর্ডঃ মনিটারী পলিসির মতোই আরেকটা পলিসির নাম বলেন?
প্রার্থীঃ ফিসকেল পলিসি।
বোর্ডঃ ফিসকেল পলিসি নিয়ে কে কাজ করে?
প্রার্থীঃ অর্থ মন্ত্রণালয়, স্যার।
বোর্ডঃ বাংলাদেশ ব্যাংকে এখন কতজন ইডি আছেন?
প্রার্থীঃ ১৪ জন, স্যার।
বোর্ডঃ মুদ্রাস্ফীতি কিভাবে হিসাব করা হয়?
প্রার্থীঃ জানি না, স্যার।
বোর্ডঃ দর্শনে ঈশ্বর সম্পর্কে কি বলা আছে?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ অজ্ঞেয়বাদ কি?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ দেশের দুজন দার্শনিকের নাম বলেন?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ আরজ আলী মাতব্বর এর দর্শন কি রকম?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ চেক ও পে-অর্ডারের মধ্যে পার্থক্য কি?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ পুজিবাজার নিয়ন্ত্রণ করে কোন প্রতিষ্ঠান?
প্রার্থীঃ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।
বোর্ডঃ সম্প্রতি কোন দেশে WTO এর সম্মেলন হয়?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ সম্মেলনে তিনটি সিদ্ধান্ত হয়। সেগুলো কি কি?
প্রার্থীঃ জানি না, স্যার।
বোর্ডঃ পেপার পড় না মনে হচ্ছে! কয়টা মোবাইল সিম ব্যবহার করো?
প্রার্থীঃ একটা, স্যার।
বোর্ডঃ ফেসবুক ব্যবহার করো?
প্রার্থীঃ করি, স্যার।
বোর্ডঃ ঠিক আছে, আসো!
প্রার্থীঃ ধন্যবাদ ও সালাম দিয়ে প্রস্থান।

পদের নামঃ এক্সিকিউটিভ অফিসার, জনতা ব্যাংক লিমিটেড 
বোর্ডঃ নম্বর-০৪ (ডিএমডি)
সময়ঃ ০৩:০০ টায়
ভাষাঃ ইংরেজী+বাংলা, অবস্থানকালঃ ৬ মিনিট

প্রার্থীঃ (বেল বাজার সাথেই দরজা খুলে বললাম) আসতে পারি, স্যার?
বোর্ডঃ আসুন
প্রার্থীঃ আসসালামু আলাইকুম, স্যার।
বোর্ডঃ উত্তর দিয়ে বসতে বললেন।
প্রার্থীঃ ধন্যবাদ, স্যার।
বোর্ডঃ Express your academic background.
প্রার্থীঃ Answered…
বোর্ডঃ তোমার তো এখনও মাস্টার্স শেষ হয় নাই।
প্রার্থীঃ জ্বি, স্যার।
বোর্ডঃ বাংলাদেশ দর্শন সমিতির সভাপতি কে?
প্রার্থীঃ ড. আমিনুল ইসলাম
বোর্ডঃ উনার দর্শন কি ধরনের?
প্রার্থীঃ উন্নয়নবাদী দর্শন, স্যার।
বোর্ডঃ একটু বুঝাও তো।
প্রার্থীঃ হাবিজাবি বুঝালাম…
বোর্ডঃ আর কোথাও ভাইভা দিয়েছো? নাকি এটাই প্রথম?
প্রার্থীঃ বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক পদে ভাইভা দিয়েছি।
বোর্ডঃ ও। বলো বাংলাদেশ ব্যাংক কে কেন লেন্ডার অফ লাস্ট রিসোর্ট বলা হয়?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ অ-তফিসীলি ব্যাংক কি?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ দেশে এ ধরনের কতটি ব্যাংক আছে?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ এবার টিভির দিকে খেলা দেখা শুরু করলো। কিছুক্ষন পর বললেন, আপনার কোন ব্যাংক একাউন্ট আছে?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ একাউন্ট খুলতে কি কি লাগে?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ স্যার, ছেড়ে দেই? ঠিক আছে সৈকত, এবার আসো।
প্রার্থীঃ ধন্যবাদ ও সালাম দিয়ে বের হয়ে আসলাম!

পদের নামঃ সিনিয়র অফিসার, বিকেবি
বোর্ডঃ মোহাম্মদ নওশাদ আলী চৌধুরী
অবস্থানকালঃ ৫-৭ মিনিট

প্রার্থীঃ আসতে পারি, স্যার?
বোর্ডঃ আসুন।
প্রার্থীঃ চেয়ারের কাছে গিয়ে আসসালামু আলাইকুম বলে দাঁড়িয়ে থাকলাম।
বোর্ডঃ উত্তর দিয়ে বসতে বললেন।
প্রার্থীঃ ধন্যবাদ দিয়ে বসলাম।
বোর্ডঃ কোথায়, কিসে লেখাপড়া করেছেন?
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ এখন কি করছেন?
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ সক্রেটিসের একটা বিখ্যাত উক্তি বলেন।
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ এছাড়া আরেকটা বলেন।
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ সক্রেটিস মৃত্যুর সময় একটা কথা বলে যান। কথাটা কি?
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ এটা ছাড়াও আরেকটা বলছেন। কি সেটা?
প্রার্থীঃ জানিনা, স্যার। (পরে বন্ধুর কাছে শুনলাম, তিনি বন্ধুদের ঋণমুক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন)
বোর্ডঃ কৃষি ব্যাংকের কাজ কি?
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ শুধুই কৃষকদের ঋণ দেয়?
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ SME এর পূর্ণরূপ কি?
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ SME এর ভাগগুলো বলেন।
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ কৃষি ব্যাংক তো বিশেষায়িত ব্যাংক। এছাড়া দেশে আর কি ধরণের ব্যাংক আছে?
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ পাঁচটি বিদেশী ব্যাংকের নাম বলেন।
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ Citi Bank NA. এই NA এর অর্থ কি?
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ কৃষি ব্যাংকের এমডির নাম কি?
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নাম কি?
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ ঠিক আছে, আসুন।
প্রার্থীঃ ধন্যবাদ ও সালাম দিয়ে বের হয়ে আসলাম।

এবার কষ্ট করে পিএসসি ও ব্যাংকের বাইরে অন্যান্য সরকারী চাকরির ভাইভা অভিজ্ঞতা দেখুন।

পদের নামঃ সহকারী পরিচালক, রাজউক
সময়ঃ ৫:৩০ মিনিট
ভাষাঃ বাংলা+ইংরেজী

প্রার্থীঃ (বেল বাজার সাথেই দরজা খুলে বললাম) আসতে পারি, স্যার?
বোর্ডঃ আসুন
প্রার্থীঃ আসসালামু আলাইকুম, স্যার।
বোর্ডঃ উত্তর দিয়ে বলল, বসুন।
প্রার্থীঃ ধন্যবাদ, স্যার।
বোর্ডঃ Express yourself.
প্রার্থীঃ I am X. I am from Y. My father name is Md. A Talukder who is a govt. employee and mother name is Most. B Begum who is also a govt. employee. I obtained my Bachelor and Master degree in Philosophy from J University in 2009 and 2010 respectively. Before that I passed SSC in 2003 from G Govt. Boys’ High School under Rajshahi board and Passed HSC in 2005 from R Govt. College under the same board. My aim in life is to be a govt. first class Officer. For that I am performing Viva Voce now. Thats all for the time being.
বোর্ডঃ Ohh, studied Philosophy, Good. Tell something about your district.
প্রার্থীঃ The name of my district is X. It’s former name is Vobanigong and transformed into district in 1984. The area of the district, number of upazila and literacy rate is 2179.12 Sq. Km., 7 and 54% respectively. Our district is famous for ROSMONJURI. (থামিয়ে দিলেন)
বোর্ডঃ টি আই এম ফজলে রাব্বি এবং এডভোকেট ফজলে রাব্বি কে চেনেন?
প্রার্থীঃ জি স্যার, চিনি।
বোর্ডঃ তাদের সম্পর্কে বলেন।
প্রার্থীঃ টি আই এম ফজলে রাব্বি হলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, গাইবান্ধা – ৩ আসনের সাবেক এমপি এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক। আর এডভোকেট ফজলে রাব্বি হলেন বর্তমান জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার এবং গাইবান্ধা – ৫ আসনের এমপি।
বোর্ডঃ Make sentences by “Built a castle in the air”, “Bag and Baggage”, “Black Sheep”
প্রার্থীঃ (1) One should stop building castles in the air. (2) He left the place bag and baggage. (3) He is a black sheep in the family because he don’t have a job.
বোর্ডঃ সহকারী পরিচালক হওয়ার জন্য আমি কোন কিছুই বাদ রাখবো না” ইংরেজী করো।
প্রার্থীঃ I left no stone unturned to be a Assistant Director.
বোর্ডঃ অর্থসহ বাক্য রচনা করো, ” হাটে হাড়ি ভাঙ্গা”, “অন্ধের যষ্টি”।
প্রার্থীঃ (১) হাটে হাড়ি ভাঙ্গা (গোপন কথা ফাস করা) – বেশি বেয়াদবি করো না হাটে হাড়ি ভেঙ্গে দেবো। (২) অন্ধের যষ্টি (একমাত্র অবলম্বন) – এই ছেলেটি বৃদ্ধ মায়ের অন্ধের যষ্টি।
বোর্ডঃ বীর উত্তম কতজন?
প্রার্থীঃ ৬৯ জন । (শুনে উনি অবাক! আমি তো জানতাম ৬৮ জন। তখন উনাকে ব্রিগেডিয়ার জামিলের কাহিনী বললাম)
বোর্ডঃ বীর বিক্রম কতজন?
প্রার্থীঃ ১৭৫ জন।
বোর্ডঃ ফরাসি বিপ্লব কত সালে হয়? এর স্লোগান কি?
প্রার্থীঃ ১৭৮৯ সালে। এর স্লোগান “স্বাধীনতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব”।
বোর্ডঃ ফরাসি বিপ্লবের শিশু কাকে বলা হয়?
প্রার্থীঃ নেপোলিয়ান বেনাপোর্টকে।
বোর্ডঃ চে গুয়েভারা কে?
প্রার্থীঃ একজন মার্কসবাদী বিপ্লবী।
বোর্ডঃ উনি কোথায় বিপ্লব করেন?
প্রার্থীঃ কিউবায়।
বোর্ডঃ সালভাদর ডালি কে?
প্রার্থীঃ একজন চিত্রকর।
বোর্ডঃ ভলতেয়ার, রুশো কে?
প্রার্থীঃ দার্শনিক ও রাষ্টবিজ্ঞানী।
বোর্ডঃ ঠিক আছে, আপনি আসেন।
প্রার্থীঃ ধন্যবাদ, স্যার। দাঁড়িয়ে সালাম দিয়ে প্রস্থান করলাম।

পদের নামঃ এডি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় 
বোর্ডঃ বোর্ড একটাই। পাঁচজন সদস্য।
সময়ঃ সকাল ১১:০০ টা। বোর্ডে ১৫-২০ মিনিট ছিলাম।

প্রার্থীঃ আসতে পারি, স্যার?
বোর্ডঃ আসুন।
প্রার্থীঃ  সালাম দিলাম।
বোর্ডঃ উত্তর দিয়ে বসতে বলল।
প্রার্থীঃ ধন্যবাদ, স্যার।
বোর্ডঃ নাম কি?
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ এত বড় নাম কিভাবে হলো?
প্রার্থীঃ বললাম। এটা নিয়ে হাসাহাসিও হলো।
বোর্ডঃ সৈকত মানে কি?
প্রার্থীঃ নদী বা সাগরের বালুময় তীর।
বোর্ডঃ নদীরও সৈকত হয়?
প্রার্থীঃ বাংলা একাডেমীর বাংলা অভিধান ও এনসিটিবির বইতে অর্থটা এরকমই দেওয়া আছে।
বোর্ডঃ কিন্তু সাধারণভাবে আমরা কি জানি?
প্রার্থীঃ সাধারণভাবে আমরা মনে করি শুধু সাগরেরই সৈকত হয়, নদীর হয়না।
বোর্ডঃ তালুকদার কেন?
প্রার্থীঃ দুই হাজার দুইশত বিঘা জমিতে হয় এক তালুক। জমিদারী প্রথা থাকাকালীন যিনি ন্যূনতম এক তালুক জমির খাজনা আদায় করতেন তাকে তালুকদার বলা হতো।
বোর্ডঃ তোমার কত নম্বর পূর্বপুরুষ তালুকদার ছিল?
প্রার্থীঃ চার নম্বর।
বোর্ডঃ তার নাম কি?
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ বাংলা ভাষার অনেক শব্দ তো বিভিন্ন ভাষা থেকে এসেছে। আহসানুর কোন ভাষার শব্দ?
প্রার্থীঃ জানিনা, স্যার।
বোর্ডঃ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ কোন বিষয়ে?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ তোমার ফ্যামিলি ও একাডেমিক রেজাল্ট সম্পর্কে ইংরেজিতে বল।
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ একজন গ্রীক, একজন ইউরোপিয়ান এবং একজন সমকালীন দার্শনিকের নাম বল।
প্রার্থীঃ সক্রেটিস, রাসেল ও মরিজ শ্লিকের নাম বললাম।
বোর্ডঃ সক্রেটিসের দর্শন আলোচনা কর?
প্রার্থীঃ ফাটিয়ে দিলুম।
বোর্ডঃ আরোহ ও অবরোহ কি?
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ একটা বাক্য বলে বললেন এটা আরোহ না অবরোহ?
প্রার্থীঃ আরোহ, স্যার।
বোর্ডঃ Fallacy কি?
প্রার্থীঃ অনুপপত্তি বা ভুল।
বোর্ডঃ বিস্তারিত বল?
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ একটা উদাহরণ দিয়ে বললেন এটা কি ধরনের অনুপপত্তি?
প্রার্থীঃ অনেক আগে পড়েছি, স্যার। মনে নেই।
বোর্ডঃ কত সালে এমএ পাস করেছেন?
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ Intuition কি?
প্রার্থীঃ সজ্ঞা।
বোর্ডঃ সজ্ঞা ও অনুভূতির মধ্যে পার্থক্য কি?
প্রার্থীঃ জানিনা, স্যার।
বোর্ডঃ গরুর বাছুর হওয়ার সাথে সাথেই সে দৌড়ে মায়ের দুধ খায়। সে কিভাবে বুঝে দুধ খাওয়া লাগবে?
প্রার্থীঃ সজ্ঞার মাধ্যমে। আমি উত্তর জানিনা। হুদাই মেরে দিছি।
বোর্ডঃ সামনে রাখা সাদা কাগজে একটা দশমিকের গুন করতে দিল।
প্রার্থীঃ করলাম।
বোর্ডঃ এখন কি কর?
প্রার্থীঃ কিছুনা, স্যার।
বোর্ডঃ বাড়ি কোন জেলায়?
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ বিসিএস দিয়েছিলে?
প্রার্থীঃ দুবার ভাইভা দিয়েছি। কোন সুপারিশ পাইনি। ৩৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার অপেক্ষায় আছি।
বোর্ডঃ বয়স কত চলে?
প্রার্থীঃ বললাম।
বোর্ডঃ ঠিক আছে, আসো।
প্রার্থীঃ ধন্যবাদ ও সালাম দিয়ে বেরিয়ে আসলাম।

পদের নামঃ এডি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বোর্ডঃ বোর্ড নম্বর ০১
সময়ঃ দুপুর দেড়টা

প্রার্থীঃ আসতে পারি, স্যার?
বোর্ডঃ আসুন।
প্রার্থীঃ সালাম দিলাম।
বোর্ডঃ উত্তর দিয়ে বসতে বলল।
প্রার্থীঃ ধন্যবাদ, স্যার।
বোর্ডঃ কি এক্সাম দিতে গিয়েছিলেন?
প্রার্থীঃ সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিয়োগের প্রিলিমিনারী পরীক্ষা।
বোর্ডঃ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ কোন বিষয়ে?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ দর্শন পড়ে কি শিখেছেন?
প্রার্থীঃ অন্যেরা যা করে নিছক আইনের ভয়ে, স্বেচ্ছায় ও সানন্দে তা করার অনুপ্রেরণা আমি দর্শন থেকে পেয়েছি (এরিস্টটলের কথা কপি মারলাম)।
বোর্ডঃ সহকারী পরিচালকের কাজ কি?
প্রার্থীঃ একজন সহকারী পরিচালক বিভিন্ন ধরণের কাজ করে থাকে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালকের কাজ হচ্ছে…
বোর্ডঃ একজন সহকারী পরিচালকের কি কি গুন থাকা উচিত?
প্রার্থীঃ সততা, নিষ্ঠা, প্রশাসনিক দক্ষতা…
বোর্ডঃ আপনার কি তা আছে?
প্রার্থীঃ অবশ্যই, স্যার।
বোর্ডঃ আপনার বাড়ি কোন জেলায়?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ কোন উপজেলা?
প্রার্থীঃ বললাম…
বোর্ডঃ এটা পীরগঞ্জের পাশে না?
প্রার্থীঃ জ্বি, স্যার।
বোর্ডঃ আপনাদের এলাকার সংসদ সদস্য ‘উনি’ না?
প্রার্থীঃ না, উনি গত টার্মে ছিলেন।
বোর্ডঃ ঠিক আছে, আসো।
প্রার্থীঃ ধন্যবাদ ও সালাম দিয়ে বেরিয়ে আসলাম।

কষ্ট করে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। লেখাটা পড়ে আপনার সামান্যতম উপকার হলেই কেবল আমার কষ্ট সার্থক। ভালো থাকবেন।

প্রশ্ন গুলো PDF ডাউনলোড করতে নিচে ক্লিক করুন

PDF File Download  link

লেখক

আহসানুর হক সৈকত তালুকদার 
৩৬ তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা)
ও সিনিয়র অফিসার, বিকেবি

বিসিএসের টিপস সবার আগে পেতে আমাদের পেইজে লাইক দিয়ে একটিভ থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *