লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিকৌশল : আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী

আহসানুল হক সৈকত তালুকদারঃ আপনি জেনারেল বা টেকনিক্যাল বা বোথ ক্যাডার মানে যে ক্যাডারই চয়েস দিয়ে থাকেন না কেন আপনাকে লিখিত পরীক্ষায় বাংলাদেশ বিষয়াবলীর উপর ১০০ নম্বরের ৩ ঘন্টার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশ বিষয়াবলীর চেয়ে এখানে লেখা কম হলেও আপনাকে প্রতি ৪ মিনিটে এক পৃষ্টা লেখার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন।

এই বিষয়ের প্রশ্নগুলোকে তিন ক্যাটাগরীতে ভাগ করা হয়েছে। Short Conceptual Notes, Analytical Questions and Problem-Solving Question.

 

Short Conceptual Notes: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সূচনা, ইতিহাস, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, রাষ্ট, আন্তর্জাতিক সংগঠন, ক্ষমতা ও নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় মতবাদ, কুটনীতি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বৈশ্বিক পরিবেশ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে এই অংশে ১২ টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন দেওয়া থাকবে। তন্মধ্যে ১০ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান ৪ মার্ক অর্থাৎ মোট মার্ক ৪০।

Analytical Questions: জাতিসংঘ, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে শক্তিধর দেশগুলো মধ্যাকার সম্পর্ক, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উদ্যোগ, আঞ্চলিক সংস্থাসমূহ, আলোচিত বিরোধ ও ইস্যু, দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক ও সমস্যা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ অর্জন, চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে এই অংশে ৪ টি প্রশ্ন থাকবে। তন্মধ্যে ৩ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১৫ মার্ক অর্থাৎ মোট মার্ক ৪৫।

 

Problem-Solving Question: বৈশ্বিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈদেশিক সাহায্য, নিরস্ত্রীকরণ ইত্যাদি নিয়ে এই অংশে ১ টি প্রশ্ন থাকবে। মার্ক থাকবে ১৫। বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যা, সম্পর্ক, চুক্তি ইত্যাদি নিয়ে প্রার্থীর সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা যাচাই করার জন্যই মূলত এই অংশ।

যে দেশের বা স্থানের আলোচনা করবেন খাতায় ম্যাপ এঁকে সেই স্থানটা তুলে ধরার চেষ্টা করবেন। তবে নিখুঁত ছবি আঁকতে বা লেখা সুন্দর করতে গিয়ে সময় নষ্ট করা যাবেনা। কারণ ১০০ মার্কেরই উত্তর দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।ছোট হোক বড় হোক সকল প্রশ্নের উত্তরেই ভুমিকা ও উপসংহার লেখার চেষ্টা করবেন। ভূমিকা কোন উক্তি (বাংলা বা ইংরেজী) বা কোন গল্প দিয়ে শুরু করতে পারেন। উপসংহারে নতুন কোন বিষয়ের অবতারণা না করে উপরে যা লিখেছেন তার সারসংক্ষেপ তুলে ধরুন।

 

লেখার মাঝে যতটা সম্ভব তথ্য উপাত্ত তুলে ধরবেন। তথ্য উপাত্ত বেশি হলে চার্ট বা টেবিল এঁকে তথ্য তুলে ধরবেন। কালো ও নীল কালির ব্যবহার করতে পারেন। তাতে পরীক্ষক সহজেই আপনার তথ্য দেখতে পাবেন।সবগুলো প্রশ্নের উত্তরই একই সাইজ রাখার চেষ্টা করবেন। যাতে মনে হয় আপনি সকল প্রশ্নই সমান গুরুত্ব দিয়ে লিখেছেন। তবে একই সাইজ করতে গিয়ে যাতে লেখার ফ্রন্ট কোন প্রশ্নে বড় আবার কোন প্রশ্নে ছোট হয়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

 

আমি মনে করি পরীক্ষকের প্রতিটি লাইন পড়ে পড়ে খাতা মূল্যায়ণ করার সুযোগ কম। তাই ঢালাও না লিখে প্রতিটি উত্তর ছোট ছোট প্যারা করে লিখে প্যারার একটা শিরোনাম দিতে পারেন। তাতে শিরোনাম দেখেই পরীক্ষক বুঝে যাবেন প্যারাটা আসলে কী নিয়ে।তাছাড়া লেখায় কাটাকাটি কম করবেন। বানান বেশি ভুল না হলে ঘষামাজা করার প্রয়োজন নেই। মোটকথা খাতা পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করবেন।

সৈকত তালুকদার

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *