Home / BCS Tips / ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পাস করতে হলে যা করতে হবে জেনে নিন

৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পাস করতে হলে যা করতে হবে জেনে নিন

মো. মমিনুল হক মুমিন : আমি কোন বিসিএস গুরু নই। ইহকালে তা হওয়ার ন্যূনতম অভিলাষও নেই। ছোট ভাই-ব্রাদারদের অনুরোধে ঢেঁকি গিললাম আর কি! পাবলিক ডিমান্ডের ফজিলতে কিভাবে বিসিএস প্রিলি [বিশেষ করে আসন্ন ৩৮ তম প্রিলি] উতরাতে হয় সেই বিষয় নিয়েই আলোচনা।

Loading...

 

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে চাকরি করা যেন বর্তমানে ক্রেজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ। সবারই কমবেশি কাছে টাকা [মাথা পিছু জাতীয় আয় ১৪৬৬ ডলার-২০১৬] আছে। তাই, পরিবার ও সমাজ বাস্তবতায় সম্মান ও প্রতিপত্তি একটি ইমপ্লাইড স্ট্যাটাস বহন করে যা সিভিল সার্ভিসের পুলিশ, প্রশাসন ও অন্যান্য ক্যাডারে যোগদানের মাধ্যমে অনেকটাই অর্জন করা সম্ভব।

 

আর যেসব কারণে বিসিএস সময়ের একটি সেরা চাকরি সেটা মোটামুটি একটা ভালো জনগোষ্ঠীই জানে। সেটা বুঝানো এই নোটসের পারপাস নয়। পারপাস হল যারা বিসিএস পরীক্ষা দিতে চান, কিন্তু প্রিলিমিনারিই উতরাতে পারছেন না, তাদের জন্য ছোটখাটো একটা গল্প। আমি জানি এই গল্পে কোন মজা বা আনন্দ নেই, কিন্তু দিনশেষে এটি একটি গল্প। এজন্যই আজ দু একটি কথা বলতে চাই।

সঙ্গত কারণেই পুরো বিসিএস এ তিনটি ভাগ :
১। প্রিলিমিনারি/MCQ [২০০ মার্কস] ২। লিখিত [৯০০ মার্কস, প্রফেশনাল ক্যাডারস- ১১০০ মার্কস] ৩। সাক্ষাৎকার/Viva [ ২০০ মার্কস ]

 

 

বিসিএস ট্যাবলেটটি যেহেতু তিন ভাগ করে খেতে হয়, সেহেতু, প্রথম ভাগ তথা প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নিয়ে আজ আলোচনা করা যাক। প্রিলিতে পাশ করলেই কেবল আপনি লিখিত পরীক্ষায় বসতে পারবেন।

 

প্রিলিমিনারি (২০০ মার্কস) = বাংলা (৩৫)+ ইংরেজি (৩৫)+ সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক ৩০+২০= ৫০)+ ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (১০)+ সাধারণ বিজ্ঞান (১৫)+ কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি (১৫) +গণিত ও মানসিক (১৫+১৫= ৩০)+ মূল্যবোধ ও সুশাসন (১০)

বাংলা (৩৫) : এই বিষয়ে ভালো করার রাস্তা হল, বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত লেখকদের বিখ্যাত সৃষ্টি সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখা ও সর্বোপরি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও উৎপত্তি খুব ভালোবেসে আপন করা। একটু ভিন্ন ভঙ্গিতে স্টাডি করবেন।
প্রশ্ন করুন, লুইপা কেন আদি কবি? উনি কেনই বা কবিতা/কাব্য রচনা করেছেন? মুকুন্দরাম কেন চণ্ডীমঙ্গলের বিখ্যাত কবি? আর মঙ্গলকাব্য কেনই বা আমাদের পূর্বপুরুষরা এতো ভালবাসত? ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর গদ্যের জনক হলেন কেন? উনার প্রেক্ষাপটটি কি ছিল? রবীন্দ্র বা নজরুলের বিখ্যাত সৃষ্টির ভেতরের খবরটি জানতে পারলে আপনার পোয়া বারোই হবে। এ ক্ষেত্রে ‘লাল নীল দীপাবলি’ একটি উৎকৃষ্ট সাহায্য হতে পারে। হুমায়ূন আজাদ নিটোল হাতের ছোঁয়ায় সাহিত্য কাহিনীর সুন্দর রূপায়ন করে গেছেন, সেই প্রাচীন কাল থেকে আজকের দিন পর্যন্ত।

 

ব্যাকরণের জন্য ৯ম-১০ম শ্রেনির বাংলা ব্যাকরণ একটি অনবদ্য সৃষ্টি আমি বলবো। ধ্বনি, বর্ণ, শব্দ, পদ, সমাস ইত্যাদি সিলেবাস ধরে পড়ে ফেলুন। বিশ্বাস করুন, এর ম্যাক্সিমাম জিনিস আপনার আগেই পড়া আছে। জাস্ট প্র্যাকটিসটা কন্টিনিউ করেন। ব্যাস, আপনার বাংলার প্রিপারেশন ডান।

ইংরেজি (৩৫) : ইংরেজিতে ভালো করাটা আসলে আপনার অভ্যস্ততার উপর অনেকাংশেই নির্ভর করবে। সাহিত্য অংশে বাংলার মতোই উৎপত্তি থেকে আজকের সাহিত্য পর্যন্ত প্রভাবশালী লেখক ও সাহিত্যিকদের সৃষ্টিকর্ম আনন্দের সাথে পড়ে ফেলুন। আর তখনকার সমাজ বাস্তবতার সাথে ওই লেখার একটা মিল খোঁজার চেষ্টা করুন।
চার্লস ডিকেন্স তার ‘A Tale of Two Cities’ এ কোন গল্পের অবতারণা করেছেন, বুঝার চেষ্টা করুন। ‘The Canterbury Tales’ এ জিওফ্রে চসার সাহেব কি তুলে ধরেছেন, চেষ্টা করুন, ধরে ফেলতে পারবেন। কিংবা, ‘Hamlet’ এ শেক্সপিয়ার কোন থিমের গল্পায়ন করেছেন তা বের করে নিয়ে আসেন।

 

মৌলিক এসব সৃষ্টির সাথে পুরো ইংরেজি সাহিত্য অনেক ক্লোজলি রিলেটেড। বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যে- কোন কবি কোন থিমকে ভিত্তি করে সৃষ্টিকর্ম বানিয়েছেন সেটা ধরার চেষ্টা করুন। Wordsworth সাহেব ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে রোমান্টিসিজমে এক নতুন ধারা সৃষ্টি করেছেন। S. T. Coleridge সাহেব একজন দার্শনিক, সমালোচক ও বিদ্রোহী ছিলেন যেমনটা আমাদের কাজী নজরুল ছিলেন।

গ্রামার/Vocab অংশে সিনোনিমস, এন্টোনিমস ইত্যাদি থাকে, তাই, GRE/GMAT এর হাই ফ্রিকোয়েন্সি ওয়ার্ডগুলো পড়ে ফেলুন। সাথে সাথে এর ব্যবহার কন্টিনিউ করবেন। আর হালের ইংরেজি পত্রিকার কলামগুলো ও ফ্যাশন পেইজ বা লাইফস্টাইল পেইজ পড়ে ফেলুন আনন্দের সাথে। এই পেইজগুলোতে দারুণ দারুণ কেতাদুরস্ত ওয়ার্ড ও ফ্রেইজ-ইডিয়ম এর সমন্বয় চোখে পড়ার মতন। ইংরেজি আপনার ভালো না হয়ে পারেনা।

সাধারণ জ্ঞান (৫০) : বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক [৩০+২০= ৫০]
বাংলদেশ অংশে বাংলার ইতিহাস- মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন, তুর্কি আক্রমণ, মুঘল শাসন, ইংরেজ শাসন, পাকিস্তানি শাসন পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয় আমাদের পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ৯ম-১০ম এর ইতিহাস বই থেকে পড়ে ফেলুন। ওই সম্পর্কিত ইতিহাসের টপিকগুলো ধরে ধরে পত্রিকা পড়ুন, মিল পাবেন, ভালো লাগবে, অনেক সময় ঘটনা জেনে বিস্মিত হবেন।
সরকারি-বেসরকারী নামীদামী পুরষ্কার, স্থাপনা, ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন থাকুন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানটি আপনি এমনিতেই পড়তেন, তাইনা? বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে আপনি ভারত/পাকিস্তানের সংবিধান পড়বেন না এটাই স্বাভাবিক। আর, এভাবেই এগুতে থাকুন। মূল কথা, একটু বিস্তারিত জানার চেষ্টা করুন।

 

আন্তর্জাতিক অংশে ভালো করার জন্য বাজারের যে কোন একটি ভালো মানের গাইড বই কিনে একটু বিশেষ গুরুত্বের সাথে পড়ে ফেলুন। টপিকগুলোর রিভিউ পড়বেন বাংলা ইংরেজি পত্রিকা, পোর্টাল, উইকি, জার্নাল, ডকুমেন্টারি থেকে। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ হয় ১৯১৪-১৯১৮ সালে। তো, একটা ডকুমেন্টারি দেখে নিন। দুই একটা বিশ্ব ইতিহাসের বই পড়ে ফেলুন। আমার কাছে, ‘বিশ্ব রাজনীতির ১০০ বছর বাই তারেক শামসুর রেহমান’ বইটা ভালো লেগেছে। এতে আপনার চিন্তার জগত অনেক বড় হবে, সূক্ষ্ম বিষয়গুলো সহজেই ধরতে পারবেন। আপনার লিখিত পরীক্ষার প্রিপারেশনও কিন্তু হয়ে যাচ্ছে।
ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (১০) : ৯ম-১০ম শ্রেনির ভূগোল বইটা পড়ে ফেলুন। প্লাস, বৈশ্বিক ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ব্যাপারগুলোর ইন্টারনেটভিত্তিক জানাশোনা বাড়াবেন। Cop22 হয়ে গেল মরক্কোতে। বাংলাদেশের দাবিগুলোর নজর রাখুন। আবার, দুর্যোগ প্রশমন তথা ব্যবস্থাপনায় আমাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত থাকুন।
সাধারণ বিজ্ঞান (১৫) : সিলেবাস ধরে ধরে বাজারের ভালো মানের যে কোন একটা গাইড বই পড়ে ফেলুন। ফল পাবেন। আগের বছর থেকে অনেক প্রশ্নই কমন পাবেন। সাধারণ বিজ্ঞান [৯ম-১০ম শ্রেণি] বইটা সিলেবাসের সাথে ম্যাচ করে পড়লেও ভাল করবেন। মোট কথা, বুঝে পড়বেন।

কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি (১৫) : আজকের ফেইসবুক, টুইটার বা ইনস্ট্রাগ্রামের কল্যাণে আমরা কম্পিউটার বা তথ্য প্রযুক্তি কে বেশি করে জানি। কম্পিউটারের সংগঠন, Ram, রম, হার্ডডিস্ক, অপারেটিং সিস্টেমস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, স্মার্টফোন, ডেটাবেইজ, ক্লাউড কম্পিউটিং ইত্যাদি এখন আপনার স্মার্টফোন বা কম্পিউটার ওপেন করলেই চোখের সামনে লুকোচুরি করে। কম্পিউটার প্রতিদিন বা জগত ইত্যাদি প্রযুক্তি বিষয়ক সাময়িকিতে চোখ বুলাতে পারেন। আর বাজারের গাইড বই না বললেও জানি পড়বেন। সো, ইট’স ডান ঠু।

গণিত ও মানসিক দক্ষতা [১৫+১৫= ৩০] : আবারো একই কথা, সিলেবাস ধরে ধরে ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বা উচ্চতর গণিত করতে থাকুন। থাকুন বললাম এই জন্য যে, গণিতের ধরণটাই এইরকম। প্র্যাকটিস করতে থাকুন। আরেকটা ব্যাপার, যদি গণিত কঠিন লাগে, আমার পরামর্শ হলো- সব ম্যাথ করার দরকার নেই, যতটুকু আপনার ভালোলাগার মধ্যে আছে ততটুকুই করুন। দুশ্চিন্তা না করে, বাকি সময়টা অন্য সাবজেক্টের জন্য রাখুন।

 

আর মানসিক দক্ষতায় আপনি বিশ্বাস করুন নিজ থেকে না পড়েই ৫০ শতাংশ সমাধান করতে পারবেন। বাকিটা মানসিক দক্ষতার আগের বছরের সমস্যাগুলো সমাধানের মাধ্যমে হয়ে যাবে আপনার। বেশি বেশি মডেল প্রশ্ন সলভ করতে থাকুন। ভুলগুলো শুধরে নিন।

মূল্যবোধ ও সুশাসন [১০] : কমনসেন্স এপ্লাই করবেন আর ইন্টারনেটভিত্তিক সুশাসনের টপিক পড়ে ফেলুন। বিশেষকরে, World Bank, United Nations or Human Rights Organizations এর প্রতিবেদনে চোখ বুলান। এখানে আপনার ভালো না হয়ে পারেই না।

সবার জন্য শুভ কামনা

 

লেখক
মো. মমিনুল হক মুমিন
৩৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডার

 

বিসিএসের টিপস সবার আগে পেতে আমাদের পেইজে লাইক দিয়ে একটিভ থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *