Home / BCS Tips / জেনে নিন বিসিএসের দুই লিজেন্ডের কথোপকথন, গ্রেটরা এমনই হয়

জেনে নিন বিসিএসের দুই লিজেন্ডের কথোপকথন, গ্রেটরা এমনই হয়

৩৪তম বিসিএস পরীক্ষায় পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হয়েছেন ওয়ালিদ বিন কাশেম ৩০তম বিসিএসের আরেক লিজেন্ড সুশান্ত পালকে জাপান থেকে ফোন দিয়েছেন। সুশান্ত পাল ৩০তম বিসিএসে প্রথম হয়েছিলেন। বিসিএসের দুই লিজেন্ডের সেই কথোপকথন ক্যাম্পাসলাইভের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো…

সুশান্ত পাল : একটুআগে ওয়ালিদ ভাই ফোন দিলেন জাপান থেকে। উনি ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষায় বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হয়েছেন। উনার কিছু কথা শেয়ার করছি।

# আমার বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পেছনে ৫০% কন্ট্রিবিউশন আপনার আর মাসফি ভাইয়ের। এটা আমার ওপেনলি কনফেস করা উচিত।

# পেপারে দেখলাম, সব কোচিং সেন্টারই আমাকে ওদের স্টুডেন্ট বানায়ে দিসে। আজাইরা সব লোকজন!

 

# আমার ইনবক্সে গত ৩ দিনে যা হইসে, সত্যিই আমি তা কখনও ভাবতেও পারি না। লোকজন আসলে সহজে কোনকিছু গ্রহণ করতে পারে না। আপনি এই সেক্টরে অন্তত প্রিপারেশন নেয়ার টেকনিকের ক্ষেত্রে পুরাই লিভিং লিজেন্ড। জানি, ওরা আপনাকেও ছাড়ে না, কিন্তু আবার আপনার টেকনিকগুলিকেও ফলো করে। কিছু ভেস্টেড গ্রুপ আছে যারা এই ধরণের কথাবার্তা বলে নিজেরা পপুলার হতে চায়। চিপ!!!

# আমি প্রায়ই ভাবি, আপনি কীভাবে এতকিছুর পরও এভাবে করে মানুষকে ইন্সপায়ার করে যাচ্ছেন! আপনি আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করসেন, ভাই। ……….. ৬৪৪! এই সংখ্যাটাই আমাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসছে। আমি প্রায়ই আপনার রিটেনের মার্কসটা মাথায় রাখতাম আর একেবারেই খুব সাইলেন্টলি আপনার সব পোস্ট খুব মন দিয়ে পড়তাম। নিজেকে শুধু বলতাম, ৬৪৪কে বিট করতে হবে, যে করেই হোক!

# ভাই, আমি কিন্তু ৩৩তম প্রিলিতে ফেল করা ক্যান্ডিডেট। পরবর্তীতে ৩৪তম বিসিএস প্রিলির আগে ১ সপ্তাহ খুব ভাল করে পড়সি। রিটেনের আগে ২-৩ সপ্তাহ সবকিছু ছেড়ে পড়াশোনা করে আজকে চাকরিটা পাইসি।

 

# আমি সাধারণত বইটই খুব একটা পড়ি না, ধৈর্য কম। কোনকালেই কারোর লেখা তেমন একটা মন দিয়ে পড়সি বলে মনে পড়ে না। কিন্তু জীবনে ২ জন ব্যক্তির লেখা কোন ক্লান্তি ছাড়াই পড়সি। গ্রাজুয়েশনে থাকার সময় যার লেখা পড়ে মুগ্ধ হইসিলাম, উনি আনিসুল হক, মাসফি ভাইয়ের খুব অপছন্দের মানুষ। হাহাহাহা………. পোস্টগ্রাজুয়েশনে যার লেখা সবসময়ই পড়তাম, উনি হলেন আপনি। আপনার লেখার সাবলীলতা আমাকে মুগ্ধ করে রাখে। সবসময়ই চেষ্টা করতাম, আপনাকে রেপ্লিকেট করতে। যখনই কিছু লিখতাম, ভাবতাম, আপনার মতন হচ্ছে কিনা। আপনার স্টাইলটা ফলো করার চেষ্টা করসি। একটা সত্যি কথা বলি ভাই। কেউ বিশ্বাসও করতে পারবে না। ৩৪তম বিসিএস রিটেনের সময় বাংলাদেশ অ্যাফেয়ার্স আর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স পরীক্ষার আগের রাতে আমি বসে বসে যা পড়সি, তা হল আপনার আর মাসফি ভাইয়ের লেখা। একেবারে খুব মন দিয়ে পড়সি আর ভাবসি, কালকে পরীক্ষায় এভাবে করেই লিখব। আমি এসব কথা কোনদিনও আপনাকে বলি নাই। বললে ভাবতেন, তেল মারতেসি। আজকে তো আর বলতে কোন বাধা নাই। তাই আপনাকে থ্যাংকস দিয়ে নিজেকে হাল্কা করতেসি ভাই। দেশে থাকলে আপনার সাথে দেখা করতাম অ্যান্ড ইউ উড সি টিয়ার্স ইন মাই আইজ।

 

 

# এই যে আপনি ইয়াং জেনারেশনকে হেল্প করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন, এটা সবাই মনে রাখবে। আপনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ক্যারিয়ার আড্ডায় যে কথা বলেন, এর জন্য আপনি কী পান? কিছুই না। পেপারে যে পোলাপানের জন্য এত এত লিখেন, অনেক কষ্ট হয় ভাই। আমার নিজেকেও ডিবেট করার সূত্রে লেখালেখি করতে হইসে, কথা বলতে হইসে, তাই আমি বুঝি। এই যেমন সেদিন প্রথম আলো’তে যে লিখসেন, ৩৫ পয়েন্টে ৩৫তম, এরকম ছোট্ট একটা লেখা কত মানুষকে যে চাকরি পাওয়ায়ে দিবে, আপনি তা ভাবতেও পারবেন না। আমি আজকে কনফেস করতেসি ভাই, আপনি ছিলেন আমার আইডল। আমার চেষ্টাই ছিল আপনি যা করসেন, আমাকেও সেটা করতে হবে। যত কষ্টই হোক। অংক, বিজ্ঞান এসব জিনিস পারা যায়। কিন্তু যেগুলিতে অনেককিছু লিখতে হয় সেগুলিতে আমি সিমপ্লি যা করসি, তা হল, আপনার লেখার স্টাইলটা ফলো করে লেখার ট্রাই করসি। কথাগুলি কাউকে কখনও বলি নাই। আজকে আপনাকে বলতে পেরে খুব ভাল লাগতেসে।

 

 

ওপরের কথাগুলি বলার এক পর্যায়ে ওয়ালিদ ভাই বললেন, “ভাই, পরশুদিন আমার টনসিলের অপারেশন। দোয়া কইরেন।” আমি বললাম, “ভাই, আপনি টনসিলের ব্যথা নিয়ে এত কথা বলতেসেন কেন?” “ভাই, আপনি ব্যস্ত থাকেন, তাই ফোন দিই না। আজকে সুযোগ পাইসি। আমাকে বলতে দেন।”

আমি এমনিতেই ইমোশনাল মানুষ, উনার এ কথা শোনার পর চোখের পানি আর আটকে রাখতে পারলাম না। এই মানুষটাকে গত ৩দিন ধরে যেসব নোংরা কথা সহ্য করতে হয়েছে, ভাবতেও কষ্ট হয়! অনেকে আমাকেও জিজ্ঞেস করেছেন, দাদা, আসল ব্যাপারটা কী? কে ফার্স্ট হইসে? পরিষ্কার হওয়া দরকার।

……… আহা! মানুষের যে কত আজাইরা টাইম! ভাবলেও হিংসা লাগে!!

কিছু কথা বলে ফেলি। রাগ করবেন না। করলে করেন! কিছুই করার নাই।

 

ওয়ালিদ ভাই যে সম্মিলিত মেধাতালিকায় প্রথম হয়েছেন, এটা মেনে নিতে অনেকেরই কষ্ট লাগতে পারে। এটা পুরোপুরি জানতে একটু অপেক্ষা করতে হবে আমাদের। কিন্তু এই মানুষটা তো ফরেনের মতন একটা শীর্ষস্থানীয় ক্যাডারে প্রথম হয়েছেন, তাই না? যারা আজেবাজে কথা বলছেন, তাঁদের ফুল ফ্যামিলি মিলে বিসিএস পরীক্ষা দিলেও কি ফরেনে প্রথম হয়ে দেখাতে পারবেন? জ্বি ভাই, ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলাম। পারলে রাস্তার বাজে লোকজনের মত গলাবাজি না করে হয়ে দেখান। Your actions talk much louder than your words!…

শুভকামনায়
সুশান্ত পাল
আপনাদের সিনিয়র সহকর্মী Follow me on Fb Sushanta Paul

[X]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *