Home / BCS Tips / বিসিএস সহ বিভিন্ন চাকুরীর পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিভিন্ন বই নিয়ে বিশেষ গুরুত্বপুর্ন কিছু কথা

বিসিএস সহ বিভিন্ন চাকুরীর পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিভিন্ন বই নিয়ে বিশেষ গুরুত্বপুর্ন কিছু কথা

চাকুরীর প্রস্তুতির জন্য বইএর কোন শেষ নাই, খুব বেশি বই পড়ার চেষ্টা অনেকটা বৃথা তাই (just kidding ) । এক্ষেত্রে জানাটা জরুরী কিভাবে কি স্টাডি করতে হয় । একটা প্রশ্ন প্রায়ই শুনতে হয় যে বাংলা কোন বই পড়বো, ইংরেজি, গনিত বিজ্ঞান সাধারন জ্ঞান এসবের জন্য কোন বই ভালো । বাজারের কোন কোন গাইড ভালো ? কতক্ষন স্টাডি করা উচিত ? কোন গাইড বেশি informative. কোন কোন সাবজেক্ট কোন কোন বই থেকে পড়া উচিত ইত্যাদি নানান গদবাধা প্রশ্ন অনেকের । বিষয়টা আসলে বই না, বিষয়টা হল আপনি নিজে । প্রস্তুতি নিজের মত নিতে হয়, মোটামুটি ভালো যেকোনো একটা বই হলেই হয় ।
যদি বলেন ষ্ট্যাণ্ডার্ড বই কোনটা, আসলে কোন গাইড বই থেকে আপনি হুবুহু লিখবেন না, আপনি গাইড বই থেকে সাহায্য নিতে পারেন , কিন্তু লিখবেন নিজের মত । আপনি যদি যেকোনো পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে চান সবার আগে আপনার জানা উচিত সেই পরীক্ষার প্রস্তুতি কিভাবে নিতে হয় , প্রস্তুতি নেয়া শেষ হলে আপনাকে জানতে হবে পরীক্ষা কিভাবে দিতে হয় ? কারণ এই ২ টি বিষয়ের কোনটিতে যদি আপনার lack থাকে তবে আপনার জন্য কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো একটু কঠিনই হবে । কারণ আপনি যদি না জানেন কিভাবে প্রস্তুতি নিতে হয় তাহলে হয়তোবা অনেকের চেয়ে অনেক বেশি কলুর বলদের মত খাটবেন কিন্তু outcome খুব কম আসবে, দেখা যাবে আরেকজন আপনার চেয়ে অনেক কম শ্রম দিয়েও সফল কারণ সে জানে কোন পরীক্ষার জন্য কিভাবে প্রস্তুতি নিতে হয় । আবার যত ভালো প্রস্তুতিই থাকুক না কেন আপনি যদি না জানেন কিভাবে ভালো পরীক্ষা দিতে হয় বা কোন পরীক্ষাতে কিভাবে ভালোমত পারফর্ম করা যায় তাহলে যত ভালোই প্রস্তুতি নিন না কেন দেখবেন পরীক্ষাতে সব গড়বড় করে এসেছেন । ঠিক বললাম কিনা একটু ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখুন ?

দুটো বিষয়ে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে, ভালো একটা প্রস্তুতি নেয়া এবং পরীক্ষাতে যেন আপনার প্রস্তুতির best use টা করে আসতে পারেন ।

এটা করলে কি হবে, এমন পরীক্ষা দিলে কি হবে , এই পরীক্ষার বিষয়ে অমুকে এটা বলল ইত্যাদি এত কিছু কি আদৌ আপনার জানার দরকার আছে ? আমরা তো আর পরীক্ষা নিয়ে গবেষণা করতে বসিনি তাইনা ? আপনার জানা দরকার কিভাবে মোটামুটি ভালো একটা পরীক্ষা দিলে সফল হওয়া যায় ব্যস । এটা জেনে আপনার সাধ্যমত চেষ্টা করে ভালো একটা পরীক্ষা দিয়ে আসুন, রেজাল্ট নিয়ে ভাববেন না , শ্রম দিয়ে যান , ফল এমনিই চলে আসবে । কয় ঘণ্টা করে স্টাডি করা উচিত ? এই প্রশ্নের কি আদৌ কোন সদুত্তর আছে আপনিই বলুন না ? পড়া কি ঘণ্টা ধরে হয়, যতক্ষণই লাগুক না কেন আপনার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের টপিক পড়তে ততক্ষনই স্টাডি করুন, একেক বিষয় একেক জনের শেষ করতে একেক সময় লাগতে পারে, এটাই স্বাভাবিক । এর কি কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে নাকি ?

মূলকথা হল আপনার জ্ঞান অর্জিত হয়েছে নাকি হয়নি বা জানা হয়েছে নাকি হয়নি ? পরীক্ষার রেজাল্ট যদি ঘণ্টা ধরে দেয়া হত তাহলে অনেকেরই জীবনে এতদিনে ঘণ্টা বেজে যেত । আমার মনে হয় আমি বিষয়টা কিছুটা clear করতে পেরেছি , স্টাডি হওয়া না হওয়া দিয়ে কথা, কত ঘণ্টা পড়লেন এটা কথা নয় । কতজনকে দেখেছি ১৪ ঘণ্টা ধরে স্টাডি করে মেডিক্যাল বুয়েট ও ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষাতে ওয়েটিং লিস্টেও নাই, আবার ৫-৬ ঘণ্টা করে স্টাডি করে admission test এ place করেছে । আপনিই ভালো জানেন আপনার প্রতিটি বিষয় আয়ত্তে আনতে কত সময় দেয়া লাগবে । সবাই সব বিষয়ে দক্ষ হবেনা এটাই স্বাভাবিক । আমাদের উচিত আমরা যেসব বিষয়ে দুর্বল সেসব বিষয়ে আমাদের বেশি সময় দেয়া । স্টাডি একটা অভ্যাসের বিষয়, কিছুদিন একটানা স্টাডি করার অভ্যাস করুন দেখবেন এরপর স্টাডি না করলে খারাপ লাগবে । আমরা একটানা কয়েকদিন বই নিয়ে না বসলেই আর বসতে ইচ্ছে করেনা, এটাই স্বাভাবিক, মানুষ তো আমরা তাইনা ?

অনেকক্ষণ পরে মূল বিষয়ে আসি, কোন বিষয়ের জন্য কোন বই পড়া যায় , right ? আচ্ছা , যখন HSC পরীক্ষার পর পরীক্ষার্থীরা মেডিক্যাল বুয়েট কিংবা ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষা দেয় সবাইতো একই টাইপ বই পড়ে, একই টাইপ গাইড বা সাজেশন দেখে তারপরও কেন রেজাল্ট একই টাইপ হয়না ? এখানে বই কি মুখ্য বিষয় নাকি যে স্টাডি করছে বা যেভাবে স্টাডি করছে সেটি মুখ্য বিষয় ? আমার কাছে কোন বইই খুব বেশি খারাপ লাগেনা, কারণ বইগুলো মোটামুটি তথ্যবহুল করেই বের করা হয় । আপনাদের উদ্দেশ্য থাকবে যে বই থেকেই স্টাডি করুন না কেন প্রতিটি টপিক যেন আপনার মোটামুটি আয়ত্তে থাকে, এটা একটা গাইডই পড়ুন বা মূল বই পড়ুন না কেন । আপনার স্টাডিটা কেমন হয়েছে এটাই মূল বিষয় । আপনি নিজেও জানেন কি কি গাইড আছে —- ওরাকল, প্রফেসরস, আসিউরেন্স, MP3 ইত্যাদি । এগুলো থেকেও দেখতে পারেন আবার কিছু মেইন বই থেকেও সাহায্য নিতে পারেন । তবে আপনার খেয়াল রাখতে হবে আপনার বেসিক যেন strong থাকে । কারণ আপনার বেসিক যদি শক্ত থাকে আর আপনার জ্ঞানের ভাণ্ডার যদি ভারী থাকে তাহলে আপনি লিখিত পরীক্ষায় যেকোনো ধরনের প্রশ্নের উত্তর গুছিয়ে লিখতে পারবেন ।

একটি বিষয় খেয়াল করে দেখবেন HSC এর পরপরই ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষাতে যেমন ঢাকা ভার্সিটির জন্য খুব ভালমতো প্রস্তুতি নিলে অন্যান্য অনেক ভার্সিটির জন্য প্রস্তুতিটা অনেকটা হয়ে যায় তেমনি বিসিএস পরীক্ষার জন্য ভালমতো প্রস্তুতি নিলে অন্যান্য অনেক চাকুরীর পরীক্ষার প্রস্তুতি হয়ে যায় । এজন্যই দেখা যায় অনেকেই বিসিএস এর ভালো প্রস্তুতি থাকার পর কোন কারনে বিসিএস না হলে দেখা যায় সেই পরীক্ষার্থীর অন্য আরেকটি ভালো জব হয়ে গেছে । আপনি প্রতিটি বিষয়ের সিলেবাস অনুযায়ী মোটামুটি কিছু টপিক fix করে ফেলুন, যেগুলো আপনি একটি একটি করে স্টাডি করবেন । প্রথমে বাংলা , ইংরেজি, গনিত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি , সাধারণ জ্ঞান ইত্যাদি বিষয়গুলো যেকোনো একটি বই থেকে ভালমতো আয়ত্ত করার চেষ্টা করুন । মানে আপনার হাতের কাছে যে ইংরেজি বই আছে সেখান থেকে সকল ভকেবুলারি কি আপনি জানেন ?উক্ত বই এর গ্রামার কি আপনার আয়ত্তে আছে ? আপনার কাছে গনিতের যে বইটি আছে ওই বইএর সকল প্রকার সমাধান কি পারেন আপনি? যদি না পারেন তাহলে বসে আছেন কেন ? সাধারণত বিভিন্ন চাকুরীর পরীক্ষাতে কি ধরণের প্রশ্ন আসে সেটি তো আপনি বিগত বছরের প্রশ্ন দেখলেই কিছুটা বুঝতে পারবেন , সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেয়া শুরু করুন না । প্রতিবারই বিভিন্ন পরীক্ষায় কিছু ব্যতিক্রমধর্মী প্রশ্ন আসে, সেগুলো নাহয় নাইবা পারলেন । আপনার নিজের প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত সব বিষয়েই মোটামুটি দক্ষ হওয়া , পরে সময় পেলে প্রতিটি বিষয়ে নিজের জ্ঞানটা যতটা পারা যায় update করা । নিজের স্টাডি, নিজের লব্ধ জ্ঞান, নিজের performance এর ওপর confidence রাখুন । আপনি সময় ও শ্রম দিন , স্টাডি করে যান, আপনার হেরে যাওয়ার কোন সুযোগই থাকবেনা । কারণ আপনি একাই ১০০, শুধু নিজের এর ওপর আস্থা রাখুন । সফল আপনিই হবেন । ভালো থাকবেন সবাই . Good luck guys.
.
By— aryan ahmed
assistant commissioner of taxes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *